যেভাবে ই-পাসপোর্ট বানাবেন?

ই-পাসপোর্ট কি? কিভাবে ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট পাবেন? কিভাবে নিজেই অনলাইনে ই-পাসপোর্ট এর আবেদন করবেন ইত্যাদি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই লেখায়। 

বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সাধারণ পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের আবেদনও অনলাইনে করা যায়। প্রাথমিকভাবে ঢাকার উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ই-পাসপোর্ট কি?

ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়। পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিপে সংরক্ষণ করা হয়। ই-পাসপোর্টে যেসব বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয় সেসব হলো—ছবি, আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও আইরিশ। ইলেকট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা (ই-বর্ডার) দিয়ে পাসপোর্ট চিপের বাইরের বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনামূলক যাচাই করা হয়। পাবলিক কি ইনফ্রাষ্ট্রাকচারের (পিকেআই) মাধ্যমে পাসপোর্ট চিপে থাকা তথ্য যাচাই করা হয়। তাই জালিয়াতি করা কঠিন।

সাধারণ পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের চিপ থাকে। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে। 

কেন ই-পাসপোর্ট তৈরি করবেন?

পড়াশোনা, ব্যবসায়িক প্রয়োজন, কর্মক্ষেত্র কিংবা ভ্রমণ, নানা প্রয়োজনে আমাদের বিদেশ যেতে হয়। কিন্ত বিদেশ যাওয়ার জন্য যে জিনিসটি আমাদের জন্য অপরিহার্য সেটা হলো পাসপোর্ট। তাছাড়া এটি জাতীয় পরিচয় পত্রের মতো পাসপোর্ট আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আপনি বৈধভাবে বিদেশ ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাকে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবেই।

বিজ্ঞাপন

 ই-পাসপোর্ট তৈরির খরচ এমআরপি পাসপোর্টের তুলনায় অনেক কম এবং মেয়াদ তুলনামূলক বেশি । তাছাড়া এই পাসপোর্টে ৩৮ ধরণের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য মতে ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য দেশের প্রতিটি বিমান বন্দর এবং স্থ্লবন্দরে ই-গেইট স্থাপন করা হবে। তাই এই পাসপোর্ট ব্যবহারের ফলে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে।

ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হবে?

ই-পাসপোর্টের আবেদনের পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। তাছাড়া ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য কোনও ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে সেগুলো হলো –

০১. জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) এর ইংলিশ ভার্সন ।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এর ইংলিশ ভার্সন প্রয়োজন হবে।

আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এর ইংলিশ ভার্সন অথবা জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) যেকোন একটা প্রদান করলেই হবে।

আবেদনকারীর বয়স ২০ বছর হলে তাকে জাতীয় পরিচয় পত্রের (NID) প্রদান করতে হবে।

০২. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে (যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ।

০৩. আবেদনকারীর পেশাগত সনদপত্র। ছাত্র-ছাত্রীর ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ইত্যাদি। আবেদনকারীর পেশাগত সনদ না থাকলে সেক্ষেত্রে চারিত্রিক সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

০৪. সরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও(GO)/এনওসি (NOC)/প্রত্যয়নপত্র/অবসোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order) ইত্যাদি।

০৫. বিবাহিত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/ নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা।

বিজ্ঞাপন

০৬. পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।

০৭. পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হয়ে গেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সময় পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জিডি কপিসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।

০৮. আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংযোজন করত হবে।

০৯. ১৫ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পিতা-মাতা অথবা বৈধ অভিবাককের পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

১০. ৬ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ৩আর (3R Size) সাইজের (ল্যাব প্রিন্ট, গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড) ছবি।

১১. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিল (বাসার বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিল) অথবা ভাড়াটিয়ার চুক্তিপত্র প্রদান করতে হবে।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আরো কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিকটস্থ আঞ্চলিক বা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনের প্রকৃয়া কি?

ই-পাসপোর্ট এর আবেদন আনলাইনে করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করার জন্য বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল (https://www.epassport.gov.bd) এ গিয়ে অনলাইন আবেদন বাটনে ক্লিক করুন। অথবা আপনি সরাসরি এই লিংক থেকেও আবেদন করতে পারবেন। তারপর একাউন্ট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাবমিট করলে আপনার প্রদত্ত ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড/লিংক পাঠানো হবে। মেইলে প্রদত্ত লিংক/কোড এর মাধ্যমে ভেরিফাই করলে আপনার একাউন্টটি এক্টিভেট করা হবে।

তারপর আপনার ইমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর Apply for a new e-Passport বাটনে ক্লিক করে আবেদন ফরমটি পূরণ করুন। আবেদন ফরমটি জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরম পূরণের আগে নিম্নে প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো পড়ে নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

ফরম পূরণে আপনার যদি কোন সমস্যা হয়, তাহলে এ বিষয়ে দক্ষ বা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন। খুব সতর্কতার সাথে আবেদন ফরমটি পূরণ করুন। আবেদন ফরমে কোন তথ্য ভুল দিয়ে সাবমিট করলে আপনাকে আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে। আর এ জন্য আপনাকে অফিসে গিয়ে আবেদন বাতিল করতে হবে। তাছাড়া আপনার আগের আবেদনটি বাতিল না হলে আপনি নতুন করে আবার আবেদন করতে পারবেন না। তাই ভোগান্তি এড়াতে আবেদনের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

আবেদন ফরম পূরণের নির্দেশাবলী:

০১. যদি আপনার নামের শুধুমাত্র একটি অংশ থাকে তাহলে শুধুমাত্র Surname অংশটি পূরণ করুন। আর যদি একাধিক অংশ থাকে তাহলে পুরো নামটি Given Name এবং Surname দুটি অংশের মধ্যে ভাগ করে দিন। মনে করুন, আপনার নাম ‘বাকের’। সেক্ষেত্রে আবেদন ফরমে আপনি শুধুমাত্র Surname অংশে ‘বাকের’ লিখবেন। Given Name ফাঁকা থাকবে।  যদি আপনার নাম ‘মোঃ বাকের’, অথবা ‘মোঃ আবু বাকের’ হয়, তাহলে নামটি আপনি দুটো অংশে ভাগ করে লিখতে পারেন। আরো বিস্তারিত জানুন এই লিংক থেকে।

০২. আপনার (NID) অথবা জন্ম সনদে (BRC) আপনার নাম যেভাবে দেয়া আছে পাসপোর্টের আবেদন ফরমে হুবহু একই ভাবে (ডট বাদে) নাম লিখবেন। NID অথবা জন্ম সনদে (BRC) যদি নামের কোন ভুল থাকে তাহলে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পূর্বে ভুলগুলো সংশোধন করে নিবেন। পাসপোর্টের আবেদন ফরমে নাম লিখার সময় ডট (.), হাইপেন (-) অথবা কমা (,) ব্যবহার করবেন না। আপনার NID, জন্ম সনদ অথবা সার্টিফিকেটে ডট (.), হাইপেন (-) অথবা কমা (,) থাকলেও কোন সমস্যা নেই। কিন্তু পাসপোর্টের আবেদনে এগুলো দিবেন না।  মৃত পিতা-মাতার নামের পূর্বে ‘Late’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র মূল নামটিই লিখবেন।

০৩. নাম লিখার সময় সব বড় হাতের অক্ষরে (CAPITAL LETTERS) লিখতে হবে। শিক্ষাগত বা চাকুরীসূত্রে প্রাপ্ত পদবিসমূহ (যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টর ইত্যাদি) নামের অংশ হিসাবে ব্যবহার করবেন না। আবেদন ফরমে কেবল আপনার মূল নামটিই লিখতে হবে।

০৪. ঠিকানা লিখার সময় আপনার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাটি লিখুন। অর্থাৎ আপনার বাসার নাম্বার, রোড/ব্লক, গ্রাম/এলাকা, পোস্ট অফিস, থানা, উপজেলা, জেলা সবকিছু লিখার চেষ্টা করবেন। স্থায়ী ঠিকানার ঘরে সেই ঠিকানাই লিখবেন যেখানে আপনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

০৫. Old Passport Information – এর ঘরে শুধুমাত্র পূর্বে পাসপোর্ট করে থাকলে সেই পাসপোর্ট এর তথ্য গুলো দিবেন। এক্ষেত্রে আপনার যদি আগের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) থেকে থাকে তাহলে আপনি প্রথম অপশনটি সিলেক্ট করবেন। আপনার যদি আগেই ই-পাসপোর্ট থেকে থাকে এবং আপনি যদি নতুন ই-পাসপোর্ট এর জন্যে আবেদন করছেন, সেক্ষেত্রে ২য় অপশনটি সিলেক্ট করবেন। আর আপনার যদি কোন পাসপোর্টই না থেকে থাকে তাহলে ৩য় অপশনটি সিলেক্ট করবেন। 

০৬. Spouse Information পর্যায়ে আপনি যদি অবিবাহিত হোন তাহলে Single সিলেক্ট করবেন। আর আপনি যদি বিবাহিত হোন তাহলে Married সিলেক্ট করবেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার স্বামী/স্ত্রী’র তথ্য দিতে হবে।  

০৭. Emergency Contact এ আপনি যেকারো নাম এবং ফোন নাম্বার দিতে পারেন। এমন কারো নাম দেয়া উচিত যার সাথে যোগাযোগ করলে জরুরী প্রয়োজনে আপনার কাছে পোঁছানো যাবে।

০৮. Passport Options এ আপনার আবেদন এর ধরণ এবং পাসপোর্টের পৃষ্ঠার সংখ্যা সিলেক্ট করে দিবেন।

বিজ্ঞাপন

০৯. Delivery Options পর্যায়ে সাধারণ ডেলিভারির জন্য Normal Delivery এবং দ্রুত সময়ে ডেলিভারির জন্য Express Delivery অপশন সিলেক্ট করবেন। অতি দ্রুত সময়ে ডেলিভারির জন্য Super Express Delivery অপশন সিলেক্ট করে দিবেন।

বিঃদ্রঃ অতি জরুরি পাসপোর্ট আবেদনের আগে দয়াকরে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিবেন আপনি নির্বাচিত কিনা। বর্তমানে শুধুমাত্র যারা পুরাতন পাসপোর্ট রি-নিউ করবেন তারাই অতি জরুরি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারে।

১০. Overview of Application Data: এটি পাসপোর্ট আবেদনের শেষ ধাপ। এই ধাপে আপনাকে পূরণকৃত ফর্মটি সামারি আকারে দেখানো হবে। আপনার আবেদন ফর্মে কোন ভুল থাকলে তা সংশোধন করার সুযোগ দিবে। এখানে আপনার সবগুলো তথ্য কয়েকবার করে চেক করে নিন। এ পর্যায়ের পর আপনি আর তথ্যগুলো পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন না। তাই ঝামেলা এড়ানোর জন্যে এই ধাপে আপনার তথ্যগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিবেন। সবকিছু সঠিক থাকলে সাবমিট করে দিবেন।

১১. সাবমিট করার পূর্বে সামারি পেইজের এক কপি প্রিন্ট করবেন। আবেদন সাবমিট করার পর আপনি আবেদন ফর্মটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আবেদন ফর্মের শেষ পাতায় আপনার স্বাক্ষর দিবেন।

ই-পাসপোর্ট ফি বা খরচ কত?

ই-পাসপোর্ট আবেদনের ফি বা খরচ নির্ভর করে আপনার আবেদনের ধরণ, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং পৃষ্ঠা সংখ্যার উপর। নিচের চার্টে ই-পাসপোর্ট ফি সংক্রান্ত তথ্যাবলি দেয়া হলো –

E passport Fees Expense

ই-পাসপোর্ট ফি কিভাবে জমা দেব?

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফি সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে জমা দেওয়া যায়। আবার চাইলে এ-চালান অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনেও পরিশোধ করা যায়। অনলাইনে ফি জমা দেয়ার সময় মাঝে মাঝে পেমেন্ট ফেইল হতে পারে। মানে আপনার টাকা কেটে নিবে কিন্তু আপনার চালান আসবে না। তাই ঝামেলা এড়াতে সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে ই-পাসপোর্ট ফি প্রদান করাই উত্তম। যেসব ব্যাংকে আপনি সরাসরি গিয়ে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন সেগুলো হলো-  ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংক। 

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি কিভাবে জমা দিবেন?

আপনার নিকটস্থ ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া অথবা ঢাকা ব্যাংকের যেকোন শাখায় আপনি ই-পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) এবং আবেদনের সামারি পেইজের প্রিন্ট কপি নিয়ে ব্যাংকে গেলে তারা আপনাকে একটি চালান/ফরম দিবে। ঐ চালান/ফরমটি ব্যবহার করে আবেদনের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিবেন।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট ফি কিভাবে জমা দিবেন?

আপনি চাইলে অনলাইনে এ চালান অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ই-পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন। প্রথমেই এই লিংকে গিয়ে পাসপোর্ট ফি বাটনে ক্লিক করবেন। তারপর আপনার আবেদনের প্রকৃতি এবং বিতরণের প্রকৃতি সিলেক্ট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকার পরিমাণ দেখানো হবে। তারপর ওকে বাটনে ক্লিক করে আপনার শনাক্তকরণ নাম্বার, নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল (পাসপোর্ট এর আবেদন ফরম/NID অনুযায়ী) দিবেন। তারপর আপনার পছন্দের পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে সেটা ভেরিফাই করে পাসপোর্ট এর ফি জমা দিতে পারবেন। ফি জমা হয়ে গেলে চালান ডাউনলোড করে সেটা প্রিন্ট করে নিতে হবে। আপনি চাইলে এই লিংক থেকে আপনার পেমেন্ট ভেরিফাই করে নিতে পারেন। এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে ফি জমা দিতে পারবেন।

এ চালান ওয়েবসাইট লিংকঃ https://ibas.finance.gov.bd/acs/general/salesএ চালান এন্ড্রয়েড অ্যাপ লিংক এবং আইওএস অ্যাপ লিংক। এ চালান অ্যাপ ব্যবহার করে কিভাবে পাসপোর্টের পেমেন্ট করতে তা বিস্তারিত ভাবে জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র কিভাবে অফিসে জমা দেব?

ই-পাসপোর্ট আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন (যদি এপয়েনমেন্ট ডেট না দেয়া থাকে তাহলে ফি জমা দেওয়ার পর যেকোন দিন যেতে পারবেন) পাসপোর্ট অফিসে যাবেন। পাসপোর্ট অফিসে সাধারণত খুব ভিড় হয় তাই একটু সকাল করে যাওয়াই উত্তম। সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরে যাবেন না। চেষ্টা করবেন ফরমাল পোশাক পরে যেতে। আপনার আবেদন ফরম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে অফিসে গেলে সেখানের কর্মকর্তাগণ আপনাকে বলে দিবে কোথায় ফরমটি জমা দিতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় যেসব কাগজপত্র নিয়ে যাবেন সেগুলো হলো-

  • আবেদনের সারাংশের প্রিন্ট কপি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহ)
  • ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি। (অরজিনাল কপিও সাথে রাখবেন)
  • পেমেন্ট স্লিপ/চালান কপি।
  • পেশাগত সনদপত্রের কপি। ছাত্র-ছাত্রীর ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ইত্যাদি।
  • সরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও(GO)/এনওসি (NOC)/প্রত্যয়নপত্র/অবসোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order) ইত্যাদি। (যদি থাকে)
  • বিবাহ সনদ/ নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামার ফটোকপি। (যদি থাকে)
  • পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এবং ডাটা পেজের প্রিন্ট কপি। পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হয়ে গেলে জিডির কপি। (যদি থাকে)
  • ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি।
বিজ্ঞাপন

ফরমটি লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দেওয়ার পর একজন কর্মকর্তা আপনাকে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট করার জন্য নিয়ে যাবেন। সেখানে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান, সিগনেচার সহ অন্যান্য তথ্যগুলো নেয়া হবে। শেষে আপনাকে আপনার তথ্যগুলো সারাংশ আকারে একটি স্লিপের মাধ্যমে দেখানো হবে। এই স্লিপ বা কাগজে তথ্যগুলো যেভাবে থাকবে আপনার পাসপোর্টটি ঠিক সেভাবে প্রিন্ট করা হবে। তাই এই স্লিপ/কাগজটি ভালো করে দেখবেন। কোন ভুল থাকলে তা সাথে সাথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাবেন। এই পর্যায়ে আপনাকে অ্যাপ্লিকেশন আইডি সহ একটি রশিদ দেওয়া হবে। এটি যত্ন করে সংরক্ষণ করবেন।

ই-পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন কিভাবে করব?

সাধারণত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ৭দিনের মধ্যে পুলিশ আপনাকে ভেরিফিকেশনের জন্য ফোন দিবে। পুলিশ আপনার বাড়িতে আসতে পারে আবার আপনাকে থানায় যেতে বলতে পারে। ভেরিফিকেশনের জন্য ফোন দিলে জেনে নিবেন কি কি কাগজপত্র লাগবে। সাধারণত NID, নাগরিক সনদ, ইউটিলিটি বিল, পেশাগত প্রমাণপত্র, স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণের জন্য জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল চাওয়া হয়। তবে এটা নির্ভর করে পুলিশ কর্মকর্তার উপর। তাই তিনি ফোন দিলে আপনি জেনে নিবেন কি কি কাগজপত্র লাগবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশনের ২-৩ দিনের মাঝে আপনার পাসপোর্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তন হওয়ার কথা। আপনি এই লিংকে গিয়ে স্ট্যাটাস চেক করে দেখতে পারেন। যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। আর যদি ১৪দিন পরেও আপনার স্ট্যাটাস পেন্ডিং দেখায় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ভেরিফিকেশন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন।

ই-পাসপোর্টের কিভাবে অফিস থেকে সংগ্রহ করব?


পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে এবং এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনার পাসপোর্টটি নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। আপনার পাসপোর্টটি সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত হলে গেলে আপনাকে ইমেইল এবং মেসেজের মাধ্যমে জানানো হবে। মেসেজ পেলে আপনি আপনার ডেলিভারি স্লিপ ও কার্ড নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার ই-পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ই-পাসপোর্টের আবেদনের প্রকৃয়াটি আমরা যথাসম্ভর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এরপরেও যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা উত্তর করার চেষ্টা করব। পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন, অভিযোগ বা জিজ্ঞাসার জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। পাসপোর্ট অফিসের ঠিকানা গুলো জেনে নিন এই লিংক থেকে।

প্রবাসী সেবা অভিবাসী কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগৃহীত। যে কোন ধরণের ভুল উপস্থাপনা এড়াতে আমরা আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট করছি। তারপরেও, আপনি যদি ওয়েবসাইটে কোন ধরনের ভুল তথ্য খুজে পান, তাহলে আপনি আমাদেরকে ই-মেইল অথবা ফেসবুক মেসেজের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।

প্রবাসী সেবার সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বাধিক পঠিত